বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা কেন ঢাকার অন্যতম সেরা বসবাসের ঠিকানা?

  • Posted by: Tropical Homes
  • Category: blog

ঢাকায় বসবাসের জন্য সঠিক এলাকা নির্বাচন করা সহজ নয়, কারণ একসাথে নিরাপত্তা, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন সুবিধার বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হয়। এই দিক থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা অনেকের কাছে নির্ভরযোগ্য একটি আবাসিক ঠিকানা হিসেবে পরিচিত।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ঢাকার অন্যতম সেরা বসবাসের ঠিকানা হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এখানে পরিকল্পিত অবকাঠামো, নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শপিং সুবিধা এবং উন্নত যোগাযোগ একসাথে পাওয়া যায়। পরিবার, শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবী সবার জন্য তাই এখানে দৈনন্দিন জীবন তুলনামূলক ঝামেলাহীন এবং দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের জন্য উপযোগী।

এখন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাসের প্রধান সুবিধাগুলো একে একে দেখা যাক।

সুপরিকল্পিত অবকাঠামো

পরিকল্পিত ব্লক, প্রশস্ত রাস্তা এবং নির্দিষ্ট দূরত্বে বাড়ি নির্মাণের কারণে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাসের জন্য আরামদায়ক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত খোলা জায়গা থাকায় আলো ও বাতাস সহজে প্রবেশ করে এবং এলাকাটি খোলামেলা অনুভূত হয়। ভবনের মাঝে দূরত্ব থাকায় ঘনবসতি তৈরি হয় না, ফলে বসবাসে স্বস্তি থাকে। দৈনন্দিন চলাচল সহজ হয় এবং পরিবার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের জন্য পরিবেশ উপযোগী মনে হয়।

ব্লকভিত্তিক লেআউট থাকার কারণে রাস্তা চিনতে সহজ হয় এবং নতুন বাসিন্দারাও দ্রুত এলাকায় মানিয়ে নিতে পারেন। প্রশস্ত অভ্যন্তরীণ রাস্তা গাড়ি চলাচলকে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করে এবং একসাথে একাধিক গাড়ি চলাচলেও সমস্যা হয় না। পার্কিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে এবং গাড়ি ঘোরানো সহজ হয়। নিয়মিত যাতায়াতে চাপ কম অনুভূত হয় এবং পুরো এলাকায় চলাচল স্বাভাবিক ও আরামদায়ক থাকে।

গলি কম থাকায় অপ্রয়োজনীয় যানজট কম দেখা যায় এবং সোজা রাস্তার কারণে এক ব্লক থেকে অন্য ব্লকে যেতে সময় কম লাগে। স্কুল, বাজার বা নিকটবর্তী সেবা কেন্দ্রে যেতে সহজ হয়। হাঁটা বা গাড়িতে চলাচল দুই ক্ষেত্রেই রাস্তা থাকে ব্যবহার উপযোগী। এতে দৈনন্দিন কাজ যেমন বাজার করা, শিশুদের স্কুলে নেওয়া বা অফিসে যাওয়া কম সময়ে সম্পন্ন করা যায়।

নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বসবাসের পরিবেশ

গেটেড প্রবেশপথ, নিয়মিত নিরাপত্তা নজরদারি এবং ব্লকভিত্তিক সিকিউরিটি ব্যবস্থা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ দেয়। নিয়ন্ত্রিত প্রবেশের কারণে অপ্রয়োজনীয় যানবাহন কম ঢোকে এবং এলাকায় চলাচল স্বস্তিদায়ক থাকে। পরিবার নিয়ে বসবাসের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বাসিন্দারা নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারেন এবং এলাকায় বসবাসে আস্থা তৈরি হয়।

অনেক ব্লকে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী থাকে এবং নিয়মিত টহল দেওয়া হয়। অপরিচিত ব্যক্তি বা যানবাহন সহজে নজরে আসে এবং সন্দেহজনক চলাচল দ্রুত শনাক্ত করা যায়। এই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং বাসিন্দাদের স্বস্তি বাড়ায়।

বাণিজ্যিক ভিড় কম থাকায় এলাকায় শব্দ দূষণ কম থাকে এবং ভারী যানবাহন কম প্রবেশ করে। এতে রাস্তা তুলনামূলক ফাঁকা থাকে এবং হাঁটার জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়। শিশুদের খেলাধুলা এবং পরিবারের সদস্যদের হাঁটার জন্য নিরাপদ পরিবেশ পাওয়া যায়। সকাল বা বিকেলে বাসিন্দারা নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে পারেন এবং শান্ত আবহ বজায় থাকে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহজ প্রাপ্যতা

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও এর আশেপাশে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (North South University), ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (Independent University Bangladesh) এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (American International University-Bangladesh) এর মতো বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হয়।

কাছাকাছি অবস্থানের কারণে দীর্ঘ সময় পথে নষ্ট হয় না এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস, লাইব্রেরি বা গ্রুপ স্টাডিতে অংশ নিতে পারে। পরিবার নিয়ে বসবাসের ক্ষেত্রে এটি বড় সুবিধা তৈরি করে এবং শিক্ষার্থীরা এলাকাতেই বাসা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।

স্কুল পর্যায়েও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতর ও আশেপাশে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেমন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা, প্লেপ্যান স্কুল ইত্যাদি। এসব স্কুল কাছাকাছি হওয়ায় শিশুদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া সহজ হয়। অভিভাবকদের যাতায়াতে সময় কম লাগে এবং সকালে স্কুলে পৌঁছানো বা নিয়ে আসা কম ঝামেলায় করা যায়। এতে দৈনন্দিন রুটিন স্বাভাবিক থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল কাছাকাছি থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যান্য কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারে। কোচিং, প্রজেক্ট বা গ্রুপ স্টাডির জন্য দূরে যেতে হয় না। অনেক শিক্ষার্থী নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি বা আইইউবি’র আশেপাশে বাসা নিয়ে থাকতে পছন্দ করে। এতে পড়াশোনা, যাতায়াত এবং দৈনন্দিন জীবন একসাথে পরিচালনা করা সহজ হয়।

হাসপাতাল ও জরুরি সেবার সুবিধা

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আছে এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা (Evercare Hospital Dhaka) ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল (Kurmitola General Hospital) এবং আশেপাশের বিভিন্ন ক্লিনিক থাকায় স্বাস্থ্যসেবা সহজে পাওয়া যায়। অসুস্থতা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় এবং দূরে যেতে হয় না। পরিবার নিয়ে বসবাসের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করে।

এলাকার আশেপাশে ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সহজ হয়। প্রেসক্রিপশনের ওষুধ দ্রুত পাওয়া যায় এবং রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা করাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় না। এতে সময় বাঁচে এবং দৈনন্দিন স্বাস্থ্যসেবা সহজভাবে নেওয়া যায়।

পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের নিয়মিত চিকিৎসা বা ফলোআপের জন্য কাছাকাছি হাসপাতাল থাকা বড় সুবিধা দেয়। জরুরি অবস্থায় দ্রুত সহায়তা পাওয়া যায় এবং অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাও সহজে পাওয়া সম্ভব হয়।

শপিং, বিনোদন ও দৈনন্দিন সুবিধা

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করলে কাছাকাছি যমুনা ফিউচার পার্ক (Jamuna Future Park), মীনা বাজার (Meena Bazar), আগোরা সুপার শপ (Agora Super Shop) এবং ইউনিমার্ট (Unimart) এর মতো শপিং সুবিধা পাওয়া যায়। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য দূরে যেতে হয় না। এতে সময় বাঁচে এবং নিয়মিত জীবনযাপন সহজ হয়।

রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে এবং ব্যাংকিং সুবিধা কাছাকাছি থাকায় দৈনন্দিন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। পরিবার নিয়ে বাইরে খাওয়া বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য আলাদা পরিকল্পনা করতে হয় না। এলাকাতেই বিভিন্ন ধরনের খাবার ও বিনোদনের সুযোগ পাওয়া যায়, যা বসবাসকে আরও আরামদায়ক করে।

উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা প্রগতি স্মরনী, কুড়িল বিশ্বরোড, এয়ারপোর্ট রোড এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় যাতায়াত সহজ হয়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত যাওয়া যায় এবং নিয়মিত অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় বা ব্যবসায়িক এলাকায় পৌঁছাতে কম সময় লাগে। এতে দৈনন্দিন যাতায়াত স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ থাকে।

কুড়িল ফ্লাইওভার ও ৩০০ ফিট রোড এর সংযোগ থাকায় গাড়ি চলাচল আরও সহজ হয়। বিমানবন্দর, গুলশান, বনানী বা পূর্বাচলের দিকে যাতায়াত দ্রুত করা যায়। এই সংযোগ নিয়মিত চলাচলে সময় বাঁচায় এবং যানজটের চাপ তুলনামূলক কম অনুভূত হয়।

রাইড শেয়ার, বাস এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচলের সুযোগ থাকায় যাতায়াতের একাধিক বিকল্প পাওয়া যায়। উবার, পাঠাও বা স্থানীয় পরিবহন সহজে পাওয়া যায়। যেকোনো সময় যানবাহন পাওয়া সম্ভব হওয়ায় অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা দৈনন্দিন কাজে যাতায়াত স্বাভাবিকভাবে করা যায়।

পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশ

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তুলনামূলক খোলা জায়গা এবং রাস্তার পাশে গাছপালা থাকায় প্রাকৃতিক নির্মল পরিবেশ পাওয়া যায়। ব্যস্ত শহরের মধ্যেও এলাকাটি শান্ত থাকে এবং বসবাসে আরাম অনুভূত হয়। 

প্রশস্ত রাস্তা ও খোলা জায়গা থাকায় সকাল বা বিকেলে হাঁটার জন্য ভালো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভিড় কম থাকায় চলাচল স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ থাকে এবং নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা সহজ হয়। এতে বাসিন্দারা এলাকাতেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখতে পারেন।

সবুজ পরিবেশ শিশু ও পরিবারের সদস্যদের জন্য আরামদায়ক আবহ তৈরি করে। বিকেলে বাইরে বসা, হাঁটা বা অবসর সময় কাটানো সহজ হয়। শব্দ ও ভিড় কম থাকায় এলাকায় বসবাস শান্তিপূর্ণ থাকে এবং দৈনন্দিন জীবন আরও স্বস্তিদায়ক মনে হয়।

বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ মূল্য বৃদ্ধি সম্ভাবনা

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা বসবাসের পাশাপাশি বিনিয়োগের জন্যও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, কারণ পরিকল্পিত অবকাঠামো, প্রশস্ত রাস্তা এবং আধুনিক সুবিধার কারণে এখানে জমি ও ফ্ল্যাটের চাহিদা নিয়মিত বাড়ছে। নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকায় সম্পত্তির মূল্য সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। 

বিশ্ববিদ্যালয় যেমন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (North South University), ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (Independent University Bangladesh) এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (American International University-Bangladesh) কাছাকাছি থাকায় শিক্ষার্থীদের বাসার চাহিদা সবসময় থাকে। অনেক শিক্ষার্থী এলাকাতেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে পছন্দ করে, ফলে ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া সহজ হয় এবং নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

অফিস ও বাণিজ্যিক এলাকায় সহজ যোগাযোগ থাকায় চাকরিজীবীরাও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় থাকতে আগ্রহী। গুলশান, বনানী, বারিধারা বা কুড়িল এলাকায় কর্মরত অনেকেই কাছাকাছি থাকার সুবিধার জন্য এখানে বাসা খোঁজেন। এতে আবাসিক চাহিদা স্থির থাকে এবং বিনিয়োগকারীরা সহজে ভাড়াটিয়া পান।

শপিং সুবিধা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতাল কাছাকাছি থাকায় পরিবারভিত্তিক বসবাসের চাহিদাও বেশি থাকে। যেমন যমুনা ফিউচার পার্ক (Jamuna Future Park) এবং এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা (Evercare Hospital Dhaka) এর মতো স্থাপনা এলাকাটিকে বসবাসের জন্য আকর্ষণীয় করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে সম্পত্তির চাহিদা বজায় থাকে।

বসবাসের সুবিধা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত চাহিদার কারণে ভবিষ্যতেও এলাকাটির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিক্রি বা ভাড়া দুই ক্ষেত্রেই আগ্রহ দেখা যায় এবং সম্পত্তি দ্রুত লেনদেন করা যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা সম্পত্তি থেকে দীর্ঘমেয়াদে মূল্য বৃদ্ধি ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ পান।

AUTHOR:
Tropical Homes